• সোম. ডিসে ৫, ২০২২

ইসির বৈঠকে হট্টগোল

অক্টো ৯, ২০২২
হট্টগোল

গতকাল আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে ডিসি ও এসপিদের বৈঠকে ব্যাপক হইচই ও হট্টগোল হয়েছে বলে জানা গেছে।

একজন নির্বাচন কমিশনারের বক্তব্যের প্রতিবাদে তারা দাঁড়িয়ে যান ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন।

আসন্ন জেলা পরিষদ ও অন্যান্য নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচন কমিশন মাঠপর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ এসব কর্মকর্তাকে (ডিসি ও এসপি) নিয়ে এ বৈঠক করে।

সকাল ১০টায় শুরু হয়ে টানা ৩ ঘণ্টার বৈঠকে চার নির্বাচন কমিশনার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব, অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক,

ইসি সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কভিড আক্রান্ত হওয়ায় বৈঠকে ছিলেন না আইজিপি। বৈঠকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ডিসি-এসপিদের নিরপেক্ষভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার

(সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, আপনারা দলীয় কর্মী বা সমর্থক না হয়ে সরকারি কর্মচারী হয়ে কাজ করবেন।

সিইসির স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বৈঠক শুরু হয়। এরপর ইসি সচিব ডিসি-এসপিদের কথা বলার সুযোগ দেন। তখন ডিসি-এসপিরা নির্বাচনে জ্বালানি খরচ,

আচরণবিধি প্রতিপালনে সম্পৃক্তদের ভাতা বাড়ানো, নির্বাচনের আগে বরাদ্দের টাকা পরিশোধসহ নানা দাবি তোলেন।

এ ছাড়া সংসদ নির্বাচনে সারা দেশে ভোট কেন্দ্র কমিয়ে কক্ষ বাড়ানোর সুপারিশ করেন অনেক ডিসি-এসপি।
বৈঠকসূত্রে জানা যায়, আলোচনা সভায় হতাশা প্রকাশ করে অন্যতম নির্বাচন কমিশনার মো. আনিছুর রহমান ডিসিদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা দাবির

কথা বললেন, আমরা ইসির পক্ষ থেকে যে টাকা দিই তা-ও তো আপনারা সঠিকভাবে বণ্টন করেন না। ম্যাজিস্ট্রেটদের তেলের টাকাও আপনারা দেন না।

তাঁর এ বক্তব্যের সময় ডিসিরা দাঁড়িয়ে হইচই শুরু করেন। বেশ কয়েকজন ডিসি নির্বাচন কমিশনারের এ বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান।

বলেন, আপনি যাচাই করে দেখেন আমরা দিই কি না। এ সময় হট্টগোল সৃষ্টি হয়। তখন আনিছুর রহমান বলেন, তিনি তথ্যপ্রমাণ নিয়েই কথা বলছেন।

এ পর্যায়ে আনিছুর রহমান বলেন, এখন জেলা পরিষদের নির্বাচন হচ্ছে। বিভিন্ন জেলায় এ নির্বাচন নিয়ে নানা অভিযোগ আসছে।

কিন্তু এসব বিষয়ে আপনারা কিছুই বলছেন না। অভিযোগ আছে, কর্মকর্তারা মন্ত্রী-এমপিদের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করেন। সংলাপেও এ অভিযোগ এসেছে ইসির কাছে।

এই নির্বাচন কমিশনার কর্মকর্তাদের দায়িত্বহীনতার প্রশ্ন তুলে বলেন, কর্মকর্তারা কি নপুংসক, নখদন্তহীন হয়ে পড়েছেন? তিনি একজন এসপির উদাহরণ দিয়ে বলেন,

মাত্র ১৮ দিন হলো একজন এসপি জয়েন করেছেন। আমার পদবি মনে হয় এসপির চেয়েও ছোট, তিনি (এসপি) আমার সঙ্গে দেখাও করেননি।

তাঁর বক্তব্য চলাকালে বৈঠকে থেমে থেমে হইচই হয়। একপর্যায়ে বিরক্ত হয়ে আনিছুর রহমান কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা যদি আমার বক্তব্য শুনতে না চান, তাহলে আমি বক্তব্য দেব না।

তখন কর্মকর্তারা কেউ কেউ ‘না’ ‘না’ সূচক ধ্বনি দেন। এ পর্যায়ে বক্তব্য থামিয়ে আনিছুর রহমান মঞ্চে তাঁর নির্ধারিত আসনে গিয়ে বসে যান।

ভোট কেন্দ্র কমানোর দাবি প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর বলেন, আমাদের আরও স্টেকহোল্ডার রয়েছে। রাজনৈতিক দল রয়েছে।

এ বিষয়ে তাদের সঙ্গেও কথা বলতে হবে। নির্বাচন কমিশনার আহসান হাবিব খান লিখিত বক্তব্যে কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, নির্বাচনের আগে-পরে রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের পক্ষ বা বিভিন্ন মহল নানা ধরনের গুজব বা অপপ্রচার ছড়ায়

এবং অনেক মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করে। আপনারা এ বিষয়ে সতর্ক থাকবেন।

তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় অনেক প্রভাবশালী মহল বা রাজনৈতিক দলের নেতা, সাবেক/বর্তমান মন্ত্রী-এমপিসহ নানা মানুষ এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন।

এ ছাড়া নির্বাচনী সংবাদ সংগ্রহে গণমাধ্যমকর্মীদের যাতে বাধা সৃষ্টি না করা হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্যে সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, কোনো বিশেষ রাজনীতি বা রাজনৈতিক দলের প্রতি আপনাদের সমর্থন থাকতে পারে। কিন্তু আচরণে তার প্রকাশ্য প্রতিফলন হবে না।

আপনারা প্রকাশ্য আচরণ ও দায়িত্ব পালনে নিরপেক্ষ হবেন। দলীয় সরকারের

অধীন মনে করে নিজেদের দলীয় কর্মী বা সমর্থক ভাববেন না বা এমন আচরণ

করবেন না যাতে সরকারি বা গণকর্মচারী হিসেবে আপনাদের দলনিরপেক্ষতা

জনগণের দৃষ্টিতে প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।

আলোচনা সভা শেষে সিইসি সংবাদ সম্মেলন করেন। অন্য তিন কমিশনার মো. আহসান হাবিব খান, রাশেদা সুলতানা ও মো. আলমগীর সিইসির সঙ্গে সংবাদ

সম্মেলনে এলেও আনিছুর রহমান ছিলেন অনুপস্থিত।

ডিসি-এসপিদের দলীয় কর্মী না হতে নির্দেশ : বৈঠক শেষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে সিইসি

কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, দলনিরপেক্ষ হয়ে কাজ করতে হবে।

এমন কাজ করা যাবে না যাতে জনগণ মনে করে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছেন।

জেলা পর্যায়ে প্রশাসনের মাঠের কর্মকর্তাদের সার্বিক কর্মকান্ড ইসি পর্যবেক্ষণে রাখবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

সিইসি বলেন, দায়িত্ব পালনে কোনো শৈথিল্য সহ্য করা হবে না। সংসদ নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক এবং ইসির প্রতি আস্থা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিভাজন কাটাতে রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানে জোর দেন সিইসি।

সংসদ নির্বাচন নিয়ে পক্ষ-বিপক্ষ বিভাজন, সংশয় থাকলেও আমরা আশা করি

সংশ্লিষ্ট সব দল, পক্ষ তাদের সদিচ্ছা, প্রজ্ঞা যে-কোনো সংকট-সংশয় নিরসনে

সামর্থ্য রাখে। মতৈক্য ও সমঝোতা হবে; সংশয় ও সংকট কেটে যাবে।

ইভিএম প্রসঙ্গে সভায় আলোচনা এলে কর্মকর্তারা এ নিয়ে ব্যাপক প্রচার চালানোর
পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানান সিইসি।

ইসির নির্দেশনা মেনে চলব : বৈঠক শেষে ইসির মিডিয়া সেন্টারে ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আখতার হোসেন বলেন,

জেলা পরিষদ, সংসদ নির্বাচনসহ সার্বিক বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ভবিষ্যতে যে নির্বাচনগুলো হয় তা শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানের বিষয়ে আলাপ হয়েছে।

ডিসি-এসপিরা পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁরা তাঁদের অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন। তিনি জানান, গত নির্বাচনে ৪০ হাজারের মতো ভোট কেন্দ্র ছিল,

আগামী নির্বাচনে এ সংখ্যা বেড়ে ৪৩ হাজারের ওপরে হয়ে যাচ্ছে। নির্বাচনে ভোট কেন্দ্রের যে সংখ্যা তাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পর্যাপ্তসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা যায় না।

এজন্য আমরা চাচ্ছি ভোট ভেন্যুর সংখ্যা কমিয়ে বুথ বাড়াতে। এখন যেহেতু যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি হয়েছে, কাজেই ভোট কেন্দ্র পরিদর্শন করে

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌক্তিকসংখ্যক সদস্যের পক্ষে নির্বাচনী দায়িত্ব

পালন করা সম্ভবপর হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হয়রানিমূলক মামলার বিষয়টি

নিয়ে আলোচনা হয়নি। তবে হয়রানিমূলক মামলার সুযোগ নেই।

ব্রিফিংয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজি আতিকুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনের সময় ইসির অধীনে পুলিশ প্রশাসন কাজ করে।

পুলিশ নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনার আলোকে দায়িত্ব পালন করে।

কারও বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও আপডেট নিউজ জানতে ভিজিট করুন