• সোম. ডিসে ৫, ২০২২

কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিলল ১৫ বস্তা টাকা

অক্টো ১, ২০২২
পাগলা

ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্সে রেকর্ড পরিমাণ অর্থ ও বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কার পাওয়া গেছে।

তিন মাস একদিন পর শনিবার (১ অক্টোবর) সকাল ৯টায় কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফার তত্ত্বাবধানে মসজিদের ৮টি দানসিন্দুক খোলা হয়।

দানবাক্সগুলোর টাকা বের করার কাজ শেষে মোট ১৫ বস্তা টাকা পাওয়া যায়। এছাড়া পাওয়া গেছে বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কার।

প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে টাকা গণনার কাজে রূপালি ব্যাংকের ৫০ জন স্টাফ, মসজিদ কমপ্লেক্সে অবস্থিত মাদ্রাসার

১১২ জন ছাত্র, মাদ্রাসা-এতিমখানা ও মসজিদ কমিটির ৩৪ জন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১০জন অংশ নিয়েছেন।

টাকা গণনার এই এলাহী কাণ্ড নিজ চোখে অবলোকন করতে মসজিদের আশপাশে ভিড় করেন শহরের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গসহ নানা শ্রেণি পেশার

উৎসুক মানুষ। তাদের মধ্যে অনেকে এসেছেন দূর-দূরান্ত থেকে। এর আগে সর্বশেষ গত ২ জুলাই দানবাক্সগুলো খোলা হয়েছিল।

তখন তিন মাস ২০ দিনে ওই দানবাক্সগুলোতে জমা পড়েছিল ১৬ বস্তা টাকা। দিনভর গণনা শেষে ১৬ বস্তায় পাওয়া যায় তিন কোটি ৬০ লাখ

২৭ হাজার ৪১৫ টাকা। এছাড়া আরও জমা পড়েছিল বৈদেশিক মুদ্রা, সোনা ও রূপা। প্রতিদিনই বিভিন্ন জেলা থেকে আসা অসংখ্য মানুষ মসজিদটির

দানসিন্দুকগুলোতে নগদ টাকা-পয়সা ছাড়াও স্বর্ণালঙ্কার দান করেন। এছাড়া গবাদিপশু, হাঁস-মুরগীসহ বিভিন্ন ধরনের জিনিসপত্রও দান করা হয়।

মসজিদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা বীর মুক্তিযোদ্ধা শওকত উদ্দিন ভূঁইয়া গণমাধ্যমে জানান, পাগলা মসজিদ ও ইসলামী কমপ্লেক্সের খরচ চালিয়ে

দানের বাকি টাকা ব্যাংকে জমা রাখা হয়। এ থেকে জেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানায় অনুদান দেওয়া হয়। এছাড়া সমাজের

অসহায় ও জটিল রোগে আক্রান্তদের সহায়তাও করা হয়। পাগলা মসজিদ কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলম গণমাধ্যমকে

জানান, বর্তমান পাগলা মসজিদকে একটি অন্যতম আধুনিক ইসলামিক স্থাপত্য হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

যার নামকরণ হবে ‘পাগলা মসজিদ ও ইসলামিক কমপ্লেক্স’। দ্রুতই এর কাজ শুরু হবে। এটি নির্মাণে প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ১১৫ কোটি টাকা।

এটি বাস্তবায়িত হলে মসজিদ কমপ্লেক্স আরও দৃষ্টিনন্দন হবে। সেখানে ৬০ হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারবেন।

সুউচ্চ মিনার ও তিন গম্বুজবিশিষ্ট তিনতলা বিশাল পাগলা মসজিদ কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক স্থাপনার মধ্যে অন্যতম।

জেলা শহরের পশ্চিমে হারুয়াস্থ নরসুন্দা নদীর তীরে ১০ শতাংশ জমির ওপর মসজিদটি গড়ে উঠেছিল।

এ মসজিদের পরিধির সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে এর খ্যাতি ও ঐতিহাসিক মূল্য। সম্প্রসারিত হয়েছে মূল মসজিদ ভবনও।

তবুও দিন দিন মুসল্লিদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থান সংকুলান হচ্ছে না। মসজিটি এখন প্রায় চার একর জায়গাজুড়ে রয়েছে।

মানুষের ধারণা, খাস নিয়তে এই মসজিদে দান করলে মনের আশা পূর্ণ হয়। এ জন্য দূর-দূরান্ত থেকে অসংখ্য মানুষ এখানে এসে মানতের

টাকা সোনা, রূপার গহনা দান করে থাকেন। মুসলমান ছাড়াও অন্য ধর্মের মানুষেরাও এখানে দান করেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

আর এই ধারাবাহিকতা চলছে আড়াইশ বছরেরও বেশি সময় ধরে।

কথিত আছে, প্রায় ৫০০ বছর আগে ঈশা খাঁর আমলে ‘দেওয়ান জিলকদর খান ওরফে জিল কদর পাগলা’ নামে এক ব্যক্তি নদীর তীরে বসে নামাজ

পড়তেন। পরবর্তী সময়ে ওই স্থানে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। পরে জিল কদর পাগলার নামানুসারেই মসজিদটি ‘পাগলা মসজিদ’ নামে পরিচিতি পায়।

সময়ের বিবর্তনে আজ এ মসজিদের পরিধির সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে এর খ্যাতি ও ঐতিহাসিক মূল্যও।

অনেক বছর আগে মসজিদটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে কিংবদন্তি আছে মসজিদটি গায়েবিভাবে নির্মিত হয়েছে।

বর্তমানে মসজিদকে কেন্দ্র করে একটি অত্যাধুনিক ধর্মীয় কমপ্লেক্স এখানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সম্প্রসারিত হয়েছে মূল মসজিদ ভবনও।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৯৯৭ সাল থেকে পাগলা মসজিদটি ওয়াকফের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে।

তখন থেকে জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে মসজিদের সিন্দুক খুলে টাকা গণনা শুরু হয়।

আরও আপডেট নিউজ জানতে ভিজিট করুন