• সোম. ডিসে ৫, ২০২২

প্রথমবারের মতো দক্ষিণ কোরিয়ার উপকূলে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ উত্তর কোরিয়ার

নভে ২, ২০২২
ক্ষেপণাস্ত্র

দক্ষিণ কোরিয়ার এক সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বুধবার দেশটির উপকূল অঞ্চলের ৬০ কিলোমিটারেরও কম দূরত্বে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে উত্তর কোরিয়া।

প্রথমবারের মতো দেশটির দক্ষিণ উপকূলে এ পরীক্ষা চালায়। ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের বিষয়টি স্বীকার করেছে উত্তর কোরিয়া।

ক্ষেপণাস্ত্রটি কোরিয়ার আঞ্চলিক সীমানার বিতর্কিত উপকূল অঞ্চলে নিক্ষেপ করা হয়। যেটি উত্তর কোরিয়ার নিজেদের দক্ষিণ সীমানা বলে দাবি করে।

দক্ষিণ কোরিয়ার উপকূল অঞ্চলের বাইরে ক্ষেপণাস্ত্রটি নিক্ষেপ করা হয়। জায়গাটি উত্তর কোরিয়ার দক্ষিণ সীমানা অঞ্চলে অবস্থিত।

যেটি নিয়ে দেশ দুটির মধ্যে বিতর্ক রয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওল এটিকে ‘আঞ্চল দখলের কার্যকরী অভিযান’ বলে ব্যাখ্যা করেছেন।

উত্তর কোরিয়ার সীমান্ত এলাকার উপর দিয়ে ‍সামরিক বিমানে আকাশ থেকে সমুদ্রে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে দাবি দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউনের পক্ষ থেকে ‘দ্রুত এবং দৃঢ় প্রতিক্রিয়া’ বলে এক বিবৃতি দেয়ার পরই

উত্তর কোরিয়া দেশটির দক্ষিণে এ ক্ষেপণাস্ত্রটি নিক্ষেপ করেছে। যেটিকে উত্তর কোরিয়া ’উস্কানির মূল্য পরিশোধ’ বলে ব্যাখ্যা করেছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিপ অফ স্টাফ বলেন, উত্তর কোরিয়ার তিনটি অস্ত্রের একটি স্বল্প পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র

উত্তর কোরিয়ার উপকূলীয় অঞ্চল ওয়ানসন থেকে সমুদ্রে নিক্ষেপ করেছে। পরে তিনি বলেন,

বিভিন্ন রকমের ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র উত্তর কোরিয়ার পূর্ব এবং পশ্চিম সীমানা অঞ্চল থেকে নিক্ষেপ করা হয়।

এর আগে আমেরিকা ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে চলমান যৌথ সামরিক মহড়ার বিরুদ্ধে কঠোরতম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে উত্তর কোরিয়া।

দেশটি ওই মহড়া বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে বলে, তা না হলে ‘মার্কিন উস্কানি’র বিরুদ্ধে আরো শক্ত জবাব দেয়া হবে।

উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এ সংক্রান্ত একটি বিবৃতির বরাত দিয়ে সেদেশের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ ওই খবর জানায়।

বিবৃতিতে বলা হয়, আমেরিকা ও দক্ষিণ কোরিয়ার ‘বিরামহীন ও বেপরোয়া’ সামরিক তৎপরতার কারণে

কোরীয় উপদ্বীপ ও এর আশপাশের এলাকা একটি মারাত্মক সংঘাতময় অবস্থায় চলে গেছে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি এরকম সামরিক উস্কানি দিতে থাকে তাহলে উত্তর কোরিয়া আরো শক্তিশালী জবাব দেবে।

এর আগে সোমবার আমেরিকা ও দক্ষিণ কোরিয়া বড় ধরনের বিমান মহড়া চালায় যাতে কমপক্ষে ২৪০টি যুদ্ধবিমান অংশ নেয়।

উত্তর কোরিয়ার সাথে যখন আমেরিকা ও দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক উত্তেজনা দিন দিন বাড়ছে তখন

দুই দেশ এই মহড়া চালালো। এই মহড়ার নাম দেয়া হয়েছে ‘দ্য ভিজিল্যান্ট স্টর্ম’।

ধারণা করা হচ্ছে, আগামী শুক্রবার পর্যন্ত মহড়া চলবে। মার্কিন বিমান বাহিনীর মতে, এ মহড়ায়

দক্ষিণ কোরিয়া ও আমেরিকা প্রায় ১ হাজার ৬০০ অভিযান চালাবে। অন্যদিকে, দক্ষিণ কোরিয়ার বিমানবাহিনী বলেছে,

উত্তর কোরিয়ার উস্কানির জবাবে দু’পক্ষ অপারেশন এবং কৌশলগত সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।

ওয়াশিংটন ও সিউলের মধ্যে সর্বশেষ এমন মহড়া প্রথম অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৫ সালে। তখন এই অপারেশনের নাম দেয়া হয়েছিল ‘ভিজিল্যান্ট এইস’।

কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়ার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে-ইনের প্রশাসন উত্তর কোরিয়ার সাথে সম্পর্ক উন্নত করার চেষ্টা করেন। ফলে ২০১৮ সালে এই মহড়া স্থগিত করা হয়।

সূত্র : রয়টার্স

আরও আপডেট নিউজ জানতে ভিজিট করুন