মরক্কোকে হারিয়ে ফাইনালে ফ্রান্স
মরক্কোর বিরুদ্ধে প্রথম গোলের পর আনন্দে ছুটছেন থিও হার্নান্দেজ। তার সঙ্গে যোগ দেন এমবাপে-জিরুরা
ফরাসি সৌরভ, নাকি মারাক্কেশ রূপকথা… কার হবে জয়? উত্তর- ফরাসি সৌরভই ছড়িয়ে পড়ল আবারও।
বুধবার দিবাগত রাত আল খোরের আল বাইত স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত
জমজমাট এবং তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সেমিফাইনালের দ্বিতীয় ম্যাচে
দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ও ইউরোপের পরাশক্তি ফ্রান্স ২-০ গোলে হারায়
আফ্রিকান জায়ান্ট কিলার মরক্কোকে। জয়ী দলের থিও হার্নান্দেজ এবং কোলো মুয়ানি ১টি করে গোল করেন।
এই জয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো এবং সবমিলিয়ে চতুর্থবারের
মতো ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালে নাম লেখাল ৪ নম্বর ফিফা র্যাঙ্কিংধারী এবং ‘দ্য ব্লুজ’ খ্যাত ফ্রান্স।
আগামী রবিবার (১৮ ডিসেম্বর) লুসাইল আইকনিক স্টেডিয়ামে ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে লড়বে ফ্রান্স।
তার আগের দিন আল রাইয়ানের খলিফা ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার মুখোমুখি হবে মরক্কো।
ফ্রান্সের সামনে এখন ইতালি (১৯৩৪ ও ১৯৩৮) এবং ব্রাজিলের (১৯৫৮ ও ১৯৬২) মতো টানা দুবার বিশ্বকাপ জয়ের হাতছানি।
বুধবারের সেমির পুরো ম্যাচে দাপটের সঙ্গেই খেলে মরক্কোর স্বপ্নযাত্রা থামিয়ে দেয় ফরাসি বাহিনী।
তবে হারলেও ছেড়ে কথা বলেনি মরক্কানরা। তারাও বেশ ক’টি আক্রমণ শাণিয়েছে।
কিন্তু ফিনিশিংয়ের অভাবে এবং ভাগ্যসুপ্রসন্ন না হওয়াতে একটিও গোল করতে পারেনি।
পক্ষান্তরে ফ্রান্সও একাধিক আক্রমণ করে, আর তা থেকে দুটিকে কাজে লাগিয়ে বাজিমাত করে।
মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যান ফ্রান্সের পক্ষেই ছিল।
মরক্কোর বিপক্ষে এখন পর্যন্ত খেলা ১২ ম্যাচে ৮টিতেই জিতেছে ফ্রান্স।
হেরেছে ১টিতে। ড্র করেছে ৩টিতে। তবে বিশ্বকাপে এবারই প্রথম পরস্পরের মুখোমুখি হলো দুদল।
পর্তুগালের সঙ্গে হলুদ কার্ড পাওয়া মরক্কান স্ট্রাইকার ওয়ালিদ চেদিরা এই ম্যাচে ছিলেন না।
তবে চোট কাটিয়ে দলে ফেরেন অগার্ড। পক্ষান্তরে ফ্রান্সের ডিফেন্ডার উপামেকানো ও মিডফিল্ডার আদ্রিয়ান রাবিওকে মরক্কোর বিপক্ষে সেমিফাইনালে পায়নি ফ্রান্স।
তাদের পরিবর্তে দলে জায়গা পান ইব্রাহিম কোনাটে এবং ফোফানা।
বুধবারের ম্যাচ খেলতে নেমে বিশ্বকাপের ইতিহাসে গোলরক্ষক
হিসেবে সবচেয়ে বেশি ১৯টি ম্যাচ খেলার রেকর্ড স্পর্শ করেন ফ্রান্সের হুগো লোরিস।
তিনি জার্মানির ম্যানুয়েল নয়্যারের সমকক্ষতা অর্জন করেন।
ম্যাচের ৫ মিনিটেই গোল করে এগিয়ে যায় ফ্রান্স। মরক্কোর বক্সের ভেতরে
গ্রিজমানের কাছ থেকে বল পেয়ে তীব্রগতির শট নেন কিলিয়ান এমবাপে।
সেই শট জটলায় লেগে গিয়ে লাফিয়ে পড়ে থিও হার্নান্দেজের সামনে।
বা পায়ের অসাধারণ এক ভলিশটে গোল করেন থিও।
মরক্কোর এক ডিফেন্ডার অনেক চেষ্টা করেও সেই বল আটকাতে পারেননি (১-০)।
এবারের বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো প্রতিপক্ষ ফুটবলারের কাছ থেকে গোল হজম করল মরক্কো।
১১ মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে ওনাহির দূরপাল্লার শট বা পাশে ঝাঁপিয়ে পড়ে রুখে দেন ফ্রেঞ্চ গোলরক্ষক হুগো।
১৭ মিনিটে আবারও সুযোগ নষ্ট করে ফ্রান্স। বক্সের ভেতরে জিরুদের বা পায়ের জোরালো শট মরক্কোর সাইডপোস্টে লেগে মাঠের বাইরে চলে যায়।
৩৬ মিনিটে দারুণ এক প্রতি আক্রমণে যায় ফ্রান্স। কিন্তু এমবাপে ও জিরুড পর পর শট নিয়েও লক্ষ্যভেদ করতে পারেননি।
৪১ মিনিটে গ্রিজম্যানের কর্নার থেকে ভারানের ডান পায়ের শট আবারও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে বাইরে চলে যায়।
৪৭ মিনিটে এল ইয়ামিকের ওভার হেড কিক ফ্রান্সের গোলবারে লেগে প্রতিহত হয়।
৭৯ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে ফ্রান্স। এমবাপের পাস থেকে বদলি
ফরোয়ার্ড কোলো মুয়ানি গোল করলে হার নিশ্চিত হয়ে যায় মরক্কোর (২-০)।
বাকি সময়টায় তারা গোল করার একাধিক সুযোগ নষ্ট করলে শুধু হতাশাই বাড়ে কেবল।
মেক্সিকান রেফারি সিজার আরতুরো রামোস খেলা শেষের বাঁশি বাজালে
টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার চিত্তসুখ নিয়ে দিদিয়ের দেশমের শিষ্যরা
এবং হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়ে ওয়ালিদ রেগ্রাগুইয়ের শিষ্যরা, যারা আফ্রিকার গর্ব।
আরও আপডেট নিউজ জানতে ভিজিট করুন