• শনি. জানু ২৮, ২০২৩

শেষ আটে ওঠার লড়াই ব্রাজিল ও কোরিয়ার

ডিসে ৫, ২০২২

শেষ আটে ওঠার লড়াই ব্রাজিল ও কোরিয়ার

হট ফেভারিট হিসেবেই কাতার বিশ্বকাপের মিশন শুরু করেছিল ব্রাজিল।

সার্বিয়ার পর সুইজাল্যান্ডকে হারিয়ে এক ম্যাচ আগেই গ্রুপ

পর্বের বাধা অতিক্রম করে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।

কিন্তু শেষ ম্যাচে ক্যামেরুনের কাছে হেরে যায় তিতের দল।

রিজার্ভ বেঞ্চ নিয়ে খেলা সেই ম্যাচে হেরে কিছুটা হলেও

ব্যাকফুটে থাকা সেলেসাওদের সামনে আজ উজ্জীবিত

দক্ষিণ কোরিয়ার চ্যালেঞ্জ। শেষ ষোলোতে যে একে

অপরের মুখোমুখি হবে তারা। বাংলাদেশ সময় রাত ১টায়

দোহার ৯৭৪ স্টেডিয়ামে এশিয়ার হাতে বিশ্বকাপে

প্রতিনিধিত্ব করা দক্ষিণ কোরিয়ার মুখোমুখি হবে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।

বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে সফল দল ব্রাজিল। সর্বোচ্চ

পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন সেলেসাওরা। সর্বশেষ ২০ বছর

আগে স্বপ্নের শিরোপায় চুমো এঁকেছিল পেলে-রোনাল্ডোর

দেশটি। সেবার বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক ছিল জাপান-কোরিয়া।

আর ২০০২ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ফলও অর্জন করেছিল যৌথভাবে স্বাগতিক হওয়া দক্ষিণ কোরিয়া।

সেমিফাইনাল খেলে গোটা ফুটবল দুনিয়ারই নজর

কেড়েছিল তারা। বৈশ্বিক আসরে এখন পর্যন্ত এশিয়ার

কোনো দলের এটাই সেরা সাফল্য। এরপর ২০১০ সালে

দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে নকআউট পর্বে খেলেছিল

দক্ষিণ কোরিয়া। শেষ ষোলোর ম্যাচে উরুগুয়ের কাছে ২-১

গোলে উরুগুয়ের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যায়

তারা। দুই দশক পর আবারও বিশ্বকাপের আসর বসছে

এশিয়ার দেশ কাতারে। সেই সুযোগ এবারও দারুণভাবে

কাজে লাগিয়ে টুর্নামেন্টের শেষ ষোলোতে জায়গা করে

নেয় দক্ষিণ কোরিয়া। কিন্তু নকআউট পর্বেই অগ্নি-পরীক্ষা

তাদের সামনে। কেননা, প্রতিপক্ষ যখন ব্রাজিল তখন যে

কোনো দলের জন্যই সেই লড়াইটা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে।

তারপরও সেলেসাওদের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে

ফুরফুরে মেজাজেই রয়েছে পাওলো বেন্তোর শিষ্যরা।

বিশ্বকাপে এবারই প্রথম একে অপরের মুখোমুখি হচ্ছে

দক্ষিণ কোরিয়া-ব্রাজিল। তবে বিশ্বকাপ ছাড়া একে

অপরের বিপক্ষে খেলার বেশ ভালো অভিজ্ঞতা রয়েছে

তাদের। কেননা, এখন পর্যন্ত সাতবার একে অন্যের বিপক্ষে

প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে ব্রাজিল ও দক্ষিণ কোরিয়া। এই সময়ে

ব্রাজিলের জয় ৬ ম্যাচে। আর এশিয়ান দলটির জয়

একটি। ১৯৯৯ সালে প্রীতিম্যাচে সেলেসাওদের হারানোর

অভিজ্ঞতা রয়েছে তাদের। চলতি বছরের জুনেও

প্রীতিম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। আর সর্বশেষ

সাক্ষাতে ব্রাজিল জিতেছিল ৫-১ গোলের বড় ব্যবধানে।

কাতার বিশ্বকাপে এবার শুরু থেকেই একের পর এক অঘটন দেখে ফুটবল দুনিয়া।

যেখানে ব্রাজিলকে হারিয়ে চমকে দিয়েছিল আফ্রিকার দেশ

ক্যামেরুন। অন্যদিকে, দক্ষিণ কোরিয়াও শেষ ম্যাচে হট

ফেভারিট ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডোর পর্তুগালকে হারিয়ে

দেয়। আর তাতেই দারুণ সম্ভাবনা জাগিয়েও ‘এইচ’ গ্রুপ

থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়ে যায় দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের।

বিশ্বকাপে এবারই প্রথম আমেরিকার কোনো দলের কাছে

পরাজয়ের স্বাদ পায় ব্রাজিল। সেই সঙ্গে টানা নয় ম্যাচে

অপরাজিত থাকার যাত্রাও থেমে যায় তাদের। সেই ধাক্কা

সামলিয়েই আজ উজ্জীবিত দক্ষিণ কোরিয়াকে নিয়ে নতুন

করে ভাবতেই হচ্ছে তিতের। সার্বিয়া ও সুইজার‌্যান্ডের

বিপক্ষে প্রথম দুই ম্যাচে ব্রাজিল জয় পেলেও নিজেদের

সেরাটা দিতে পারেনি তারা। অন্যদিকে, দক্ষিণ কোরিয়া

ইতোমধ্যেই নিজেদের গতিময় ফুটবলের প্রমাণ দিয়েছে।

কাতার বিশ্বকাপে ব্রাজিলের গোল সংখ্যা মাত্র ৩টি। শুধু

তাই নয়? বিশ^কাপে টানা পাঁচ ম্যাচে প্রথমার্ধে কোনো

গোলের দেখা পায়নি সেলেসাওরা। ইনজুর সমস্যাও

রয়েছে দলে। তবে এই ম্যাচের আগে সুখবর রয়েছে

ব্রাজিলিয়ান ভক্ত-অুনরাগীদের। সেলেসাও চিকিৎসক

রদ্রিগো লাসমার নেইমার প্রসঙ্গে ইতিবাচক খবর দিয়েছেন।

গোড়ালির ইনজুরি কাটিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে খেলার সম্ভাবনা রয়েছে তার।

গোড়ালির সমস্যা অনেকটাই কাটিয়ে উঠেছেন দানিলো।

এডার মিলিটাও রাইট-ব্যাক পজিশনেই থাকছেন। কিন্তু

হাঁটুর সমস্যায় পড়া গাব্রিয়েল জেসুস ও অ্যালেক্স

তেলেসকে আর বিশ^কাপে পাওয়া যাচ্ছে না।

ইনজুরির সমস্যা রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া শিবিরেও। হুয়াং

হি-চ্যান পুরো টুর্নামেন্টেই হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে ভুগছেন।

আগের ম্যাচেও বদলি নেমে গোল করে দলকে

বাঁচিয়েছেন। আজ তাকে মূল দলে পাওয়া না গেলে

খেলানো হবে লি জায়ে-সুংইকে। কাফ পেশীর সমস্যার

কারণে পর্তুগালের বিপক্ষে মূল একাদশে ছিলেন না কিম

মিন-জায়ে। তার অবশ্য মূল দলে ফেরার আশা রয়েছে।

লি কাং-ইন ও কিম ইয়ং-গুনও হালকা ইনজুরিতে। দলের

তারকা স্ট্রাইকার সন ইয়ং-মিনের ওপর আরও একবার

ভরসা করতে চাইছে দক্ষিণ কোরিয়া। যদিও বা এবারের

আসরে এখন পর্যন্ত কোনো গোলের দেখা পাননি তিনি।

তবে পর্তুগালের বিপক্ষে জয়সূচক গোলটি করাতে ভূমিকা ছিল তারই।

কাতার বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতি ম্যাচে ব্রাজিলের কাছে ৫-১ গোলে হেরেছিল দক্ষিণ কোরিয়া।

আজ তাই তাদের সামনে প্রতিশোধ নেওয়ারও দারুণ সুযোগ। এ ছাড়াও দক্ষিণ কোরিয়ার সামনে এখন ঐতিহাসিক অল-এশিয়ান কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার হাতছানি।

ব্রাজিলের বিপক্ষে দক্ষিণ কোরিয়ার মাঠে নামার আগে যে ক্রোয়েশিয়ার মোকাবিলা করবে জাপান। বিশ্বকাপে শুরু থেকেই জাপান যেভাবে খেলছে, তাতে অবিশ্বাস্য কিছু মনে হওয়ার কথা না ফুটবল বিশ্লেষকদের।

আরও আপডেট নিউজ জানতে ভিজিট করুন