• শুক্র. জুন ৯, ২০২৩

শ্রীমঙ্গলে আগাম বুকিং কম

এপ্রি ২০, ২০২৩

শ্রীমঙ্গলে আগাম বুকিং কম

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পাওয়া ছুটি কাটাতে প্রতিবছরই দেশের নানা প্রান্ত

থেকে শহরের কোলাহলে দিন কাটানো ক্লান্ত মানুষ এসে ভিড় করেন সবুজের রাজ্য

চায়ের রাজধানী শ্রীমঙ্গলে। সবুজ চায়ের বাগানের ফাঁকে ফাঁকে রংবেরঙের পোশাক

পরা পর্যটক ঘুরে বেড়ান। ঈদ সামনে রেখে পর্যটকদের কথা মাথায় রেখে শেষ

সময়ে এসে হোটেল-রিসোর্ট ও পর্যটন স্পটগুলোতে চলা নানা প্রস্তুতি প্রায় শেষ।

প্রস্তুতি শেষ হলেও অন্যান্য বছরের মতো হোটেল-রিসোর্টে আগাম বুকিং কম হওয়ায়

বেশ দুশ্চিন্তায় পড়েছেন হোটেল-রিসোর্টের মালিক ও পর্যটন খাতের ব্যবসায়ীরা।

গত বছর যেখানে ৮০-৯০ শতাংশ আগাম বুকিং ছিল, সেখানে ৩০-৩৫ শতাংশ

আগাম বুকিং হওয়ায় তাঁরা হতাশ। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, প্রচণ্ড দাবদাহের

কারণে গরম আবহাওয়া, শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ও সাধারণ

মানুষের কাছে টাকা না থাকায় এবার আগাম বুকিং কমেছে।

শ্রীমঙ্গল পর্যটন সেবা সংস্থার তথ্যমতে, শ্রীমঙ্গল উপজেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে

৫৯টি হোটেল ও রিসোর্ট রয়েছে। এখানে আসা পর্যটকদের বড় আকর্ষণ চারদিকে

সবুজের সমারোহে সজ্জিত সারি সারি চা-বাগান। চা-বাগানের নয়নাভিরাম দৃশ্য

মুগ্ধ করে পর্যটকদের। এ ছাড়া বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিটিআরআই),

চা জাদুঘর, বাংলাদেশ বন্য প্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন, হাইল হাওর, মৎস্য অভয়াশ্রম

বাইক্কা বিল, নীলকণ্ঠ সাত রঙের চা, চা-কন্যা ভাস্কর্য, বধ্যভূমি-৭১, লাল পাহাড়,

শঙ্কর টিলা, গরম টিলা, ভাড়াউড়া লেক, ব্রিটিশদের সমাধিস্থল ডিনস্টন সিমেট্রি,

হরিণছড়া গলফ মাঠ, নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর (খাসিয়া, মণিপুরি, গারো,

ত্রিপুরা ইত্যাদি) পল্লি, সুদৃশ্য জান্নাতুল ফেরদৌস মসজিদ, হিন্দুদের তীর্থস্থান সুপ্রাচীন

নির্মাই শিববাড়ি, রামনগর মণিপুরিপাড়ার মণিপুরি হস্তশিল্প মার্কেটে পর্যটকেরা ঘুরে বেড়ান।

শ্রীমঙ্গলে আসা পর্যটকেরা শ্রীমঙ্গলে রাত যাপন করলেও পাশের কমলগঞ্জ উপজেলার

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর

রহমানের স্মৃতিসৌধ, পদ্মাছড়া লেক সহজেই ঘুরে দেখতে পারেন।

উপজেলার রাধানগর এলাকার এসকেডি আমার বাড়ি রিসোর্টের মালিক

সজল দাশ বলেন, ‘এবার ঈদ উপলক্ষে মাত্র পাঁচটি রুম বুকিং হয়েছে।

গত এক মাস আমাদের রিসোর্টেসহ সব হোটেল, রিসোর্টই ফাঁকা পড়ে ছিল। আমরা ঈদের অপেক্ষায় ছিলাম।

কিন্তু অন্যান্য বছর ঈদের ১০ দিন আগে থেকেই রুম বুকিং হয়ে যায়। এবার এখন পর্যন্ত

আশানুরূপ বুকিং আসেনি। আমরা পর্যটকদের জন্য অনেক সুযোগ-সুবিধা রেখে

ডিসকাউন্টও দিচ্ছি। এভাবে চললে আমরা স্টাফদের বেতন কীভাবে দেব আর নিজেরাই কীভাবে চলব।’

শ্রীমঙ্গল পর্যটন সেবা সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ও গ্র্যান্ড সেলিম রিসোর্টের মালিক

সেলিম আহমেদ বুধবার বলেন, ‘ঈদ সামনে রেখে প্রতিটি হোটেল-রিসোর্টেই

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, নতুন রং করা, সাজানো-গোছানোর কাজ সবাই করে ফেলেছেন।

আমি শ্রীমঙ্গলের অন্যান্য হোটেল-রিসোর্টের মালিকের সঙ্গে কথা বলেছি।

বেশির ভাগ হোটেল-রিসোর্টেই ঈদের আগাম বুকিং কম। ৩০-৩৫ শতাংশের ওপরে

বুকিং নেই বললেই চলে। কিন্তু অন্যান্য বছর এই সময়ে এসে আমরা ৮০-৯০ শতাংশ

বুকিং হয়ে যায়। আর ঈদের সময় বেশির ভাগ লোকজনই আগাম বুকিং দিয়েই আসেন।

এমনিতেই পুরো এক মাসের বেশি সময় ধরে সব হোটেল-রিসোর্টেই কোনো লাভ হয়নি। গেস্টই ছিলেন না এই সময়।’

আরও আপডেট নিউজ জানতে ভিজিট করুন