• শুক্র. ডিসে ২, ২০২২

১০ ডিসেম্বর সরকারবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের ঘোষণা

নভে ২৫, ২০২২

১০ ডিসেম্বর সরকারবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের ঘোষণা

সরকারবিরোধী দলগুলোকে সাথে নিয়ে যুগপৎ আন্দোলনের

ঘোষণা আসছে আগামী ১০ ডিসেম্বর। ঢাকার মহাসমাবেশ থেকে বৃহৎ

দল হিসেবে বিএনপি এই ঘোষণা দেবে। তবে ওই সমাবেশ থেকে কঠোর

কোনো কর্মসূচি আসছে না। শান্তিপূর্ণ সিরিজ কর্মসূচির মধ্য দিয়েই

আন্দোলনকে তুঙ্গে নেয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে দায়িত্বশীল নেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে।

১০ ডিসেম্বরের পর আন্দোলন নিয়ে কী পরিকল্পনা করা হচ্ছে,

এ বিষয়ে সম্প্রতি কথা হয় বিএনপি স্থায়ী কমিটির দুই নেতার সাথে।

এদের একজন বলেন, ‘আমরা ১০ ডিসেম্বরের পর নেমে পড়বো, আর বসে থাকার সুযোগ নেই।’

আরেকজন নেতা বলেন, ‘১০ ডিসেম্বরের পর যুগপৎ

আন্দোলনের সূচনা হবে। তবে কর্মসূচি চূড়ান্ত এখনো হয়নি।’

১০ ডিসেম্বরের গণসমাবেশ নিয়ে রাজনীতিতে এক ধরনের উত্তেজনা চলছে।

বিএনপি সে দিন কী করতে চায় তা নিয়ে দারুণ সজাগ সরকারি দল।

বিচ্ছিন্নভাবে দেশে যে গ্রেফতার অভিযান চলছে, তা বিএনপির

সমাবেশকে ঘিরেই করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

গায়েবি মামলার শিকার হচ্ছেন নেতা-কর্মীরা এমন অভিযোগ

করেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

জানা গেছে, সরকারের পদত্যাগ ও নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের

অধীনে নির্বাচনের দাবি সামনে রেখে যুগপৎ আন্দোলনের সূচনা

করতে চায় বিএনপি। ১০ ডিসেম্বর এ রূপরেখা ঘোষণা করতে পারে

দলটি। কিন্তু কী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত

সিদ্ধান্ত হয়নি। এ নিয়ে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা, বিরোধী

রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন নেতাদের

কাছ থেকে মতামত নেয়া হচ্ছে। ১০ ডিসেম্বরের আগেই আন্দোলনের

কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হতে পারে। তবে বিএনপি এখনই হার্ডলাইনে

যাচ্ছে না। সমাবেশ থেকে দাবি মানতে নিয়মতান্ত্রিক শান্তিপূর্ণ সিরিজ কর্মসূচি দেয়ার চিন্তা করা হচ্ছে।

বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় মহাসমাবেশ থেকে নতুন পন্থায় নতুন কর্মসূচি

আসবে বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি বলেন, আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকার

মহাসমাবেশ দিয়ে আমাদের বিভাগীয় গণসমাবেশের কর্মসূচি শেষ

করব। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে যেহেতু আমরা সরকার পতনের আন্দোলনে নেমেছি,

গণসমাবেশগুলো শেষ করে আমরা নতুন পন্থায় নতুন কর্মসূচিতে যাব।

নতুন কর্মসূচি প্রসঙ্গে দলটির দায়িত্বশীল এক নেতা বলেন,

ঢাকার মহাসমাবেশ থেকে শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও নির্দলীয়

নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আল্টিমেটাম

দেয়া হবে। দাবিনামা পেশ করলে সঙ্গত কারণেই তার সপক্ষে

গণসংযোগ থাকতে হবে। তাছাড়া দাবি মানতে সরকারকে চাপে রাখতে

বিভিন্ন প্রোগ্রামও দিতে হবে। বিক্ষোভ সমাবেশ, মানববন্ধন করতে হবে।

ঢাকা থেকে বিভাগ অভিমুখী লংমার্চ, রোডমার্চ আবার ঢাকামুখী

কর্মসূচিও আসতে পারে। মোট কথা বিএনপি কর্মসূচির মধ্যেই থাকবে।

তিনি আরো বলেন, ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস। দিবসটি পালনে

কর্মসূচি থাকবে। এরপর ১৭-১৮ তারিখের পর থেকে মূল কর্মসূচিগুলো

শুরু হতে পারে। আন্দোলন শুরু হলে অনেকে যুক্ত হবেন। অনেকে

যুক্ত হবেন না, দূর থেকে দেখবেন, নৈতিক সমর্থন জানাবেন।

জ্বালানি তেলসহ নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, দলের নেতা-কর্মীদের

হত্যার প্রতিবাদ; খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং নির্দলীয় সরকারের

অধীন সংসদ নির্বাচনের দাবিতে বিভাগীয় গণসমাবেশ করছে বিএনপি।

গত ১২ অক্টোবর চট্টগ্রাম পলোগ্রাউন্ড মাঠে প্রথম সমাবেশ হয়।

এরপর ময়মনসিংহ, খুলনা, রংপুর, বরিশাল, ফরিদপুর (বিএনপির সাংগঠনিক বিভাগ) ও সিলেটে সমাবেশ হয়।

২৬ নভেম্বর কুমিল্লা এবং ৩ ডিসেম্বর রাজশাহীর পর ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ হবে।

সমাবেশের জন্য ইতোমধ্যে নয়াপল্টন চেয়ে আবেদন করেছে দলটি।

ডিএমপির পক্ষ থেকে এখনো অনুমতি দেয়া হয়নি। তবে যেকোনো

মূল্যে আগামী ১০ ডিসেম্বর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয়

কার্যালয়ের সামনেই গণসমাবেশ করতে চায় বিএনপি।

এখন পর্যন্ত এই সিদ্ধান্তেই অনড় রয়েছে দলটি।

বিএনপি নেতারা বলছেন, ঢাকায় সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ সমাবেশ হবে।

এই সমাবেশ ঘিরে ঢাকা দখল বা অবরুদ্ধ করে সরকার

পতনের ডাক দেয়ার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। শুধু বড়

জনসমাবেশ করাই তাদের লক্ষ্য। তারা সরকারের কোনো ফাঁদে পা দেবে না।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এই মুহূর্তে হরতাল-অবরোধের মতো কঠোর

কর্মসূচি দিতে চায় না বিএনপি। দলটির এখন মূল লক্ষ্য, বিরোধী

সব দলকে সরকারবিরোধী আন্দোলনে নামানো। যুগপৎ আন্দোলনের

মধ্য দিয়ে ‘শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ

সরকারের’ দাবিতে দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ; দেশে-বিদেশে এ বার্তা

দিতে চাইছে তারা। বিএনপি মনে করছে, নির্বাচনকালীন সরকার

গঠনে এখনো অন্তত ৯-১০ মাস সময় রয়েছে। ফলে এখনই চূড়ান্ত আন্দোলনে যাওয়ার সময় আসেনি।

জানা গেছে, বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ, অবস্থান, মানববন্ধনের

মতো নিয়মতান্ত্রিক শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চলতে থাকবে। তবে সরকারের

পক্ষ থেকে ব্যাপক বাধা, ধরপাকড় শুরু হলে অবস্থা বুঝে কর্মসূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে।

জানা গেছে, ঢাকার সমাবেশ থেকে যুগপৎ আন্দোলন এবং রাষ্ট্রের

গণতান্ত্রিক রূপান্তরের রূপরেখা ঘোষণা করতে পারে বিএনপি।

ইতঃপূর্বে বেগম খালেদা জিয়া ঘোষিত ‘ভিশন-২০৩০’ এর আলোকে

রাষ্ট্র সংস্কারের ২৭ দফা রূপরেখার খসড়া প্রণয়ন করেছে দলটি।

এ ছাড়া আগ্রহী সমমনা দলগুলোর সঙ্গে দুই দফা সংলাপের মধ্য

দিয়ে সরকারবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের ১০ দফা খসড়াও তৈরি

করেছে বিএনপি। সবশেষ মতামত জানতে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে

ইতোমধ্যে খসড়া প্রস্তাব দুটি হস্তান্তর করা হয়েছে।

সমমনাদের নতুন কোনো প্রস্তাব থাকলে যৌথ বৈঠকে সংযোজন-বিয়োজনের মাধ্যমে তা চূড়ান্ত করা হবে।

আরও আপডেট নিউজ জানতে ভিজিট করুন